Home / Guides

How to Fix Bangla Font Rendering Issues in Illustrator

Avatar photo By lipibd

Adobe Illustrator-এ বাংলা যুক্তবর্ণ ভেঙে যাওয়া বা মাত্রা ভুল জায়গায় বসার মূল কারণ হলো ভুল টেক্সট ইঞ্জিন নির্বাচন। শেখার জন্য how to fix bangla font rendering issues in illustrator জানতে চাইলে প্রথমেই সফটওয়্যারের Preferences থেকে Indic Options চালু করতে হবে। এটি চালু করে প্যারাগ্রাফ প্যানেল থেকে World-Ready Composer নির্বাচন করলেই সব সাধারণ ইউনিকোড ফন্ট সঙ্গে সঙ্গে ঠিকভাবে কাজ করে।

Tabe Of Contents show

ফন্টটি ANSI না কি Unicode এনকোডিং দিয়ে তৈরি, সেটি আপনার কাজের ফলাফল বদলে দেবে। এছাড়া আপনি ইলাস্ট্রেটরের কোন সংস্করণ ব্যবহার করছেন তাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। পুরোনো CS6 সংস্করণে যে নিয়ম কাজ করে, আধুনিক Creative Cloud সংস্করণে সেটি আরও সহজে একটিমাত্র ক্লিকেই ঠিক করা যায়।

কাদের জন্য ইলাস্ট্রেটরে বাংলা ফন্ট ঠিক করার নির্দেশিকা

ইলাস্ট্রেটরে ডিজাইন করার সময় অনেকেই টাইপ টুল নিয়ে সমস্যায় পড়েন। প্রথম ধরনের ব্যবহারকারী ইউনিকোড কীবোর্ড যেমন অভ্র দিয়ে সরাসরি লিখতে চান, কিন্তু যুক্তবর্ণগুলো ভেঙে আলাদা অক্ষর হয়ে যায়। দ্বিতীয় ধরনের ব্যবহারকারী বিজয় বায়ান্ন দিয়ে ক্লাসিক ANSI ফন্টে লিখতে গিয়ে দেখেন ক্যারেক্টারগুলো এলোমেলো দেখাচ্ছে। তৃতীয় ধরনের ব্যবহারকারী কেবল ক্লায়েন্টের পাঠানো ফাইল খুলে নিখুঁতভাবে প্রিন্ট বা এক্সপোর্ট করতে চান।

এই নির্দেশিকা মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় ধরনের ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি, যারা সরাসরি সফটওয়্যারে টাইপ করছেন। আপনি যদি কোনো ভেক্টর ফাইল না পেয়ে কেবল পিডিএফে লেখা আউটলাইন করা দেখতে চান, তবে এই পাতা আপনার কাজে আসবে না। এখানে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে আপনার কম্পিউটারে Adobe Illustrator CC-এর যেকোনো আধুনিক সংস্করণ এবং অন্তত একটি মানসম্মত বাংলা ইউনিকোড ফন্ট ইনস্টল করা আছে।

বাংলা যুক্তবর্ণ ভেঙে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো

সবচেয়ে বড় কারণ হলো ইলাস্ট্রেটরের ডিফল্ট ল্যাটিন টেক্সট ইঞ্জিন। বাংলা একটি জটিল লিপি, যার জন্য বিশেষ ইঞ্জিন দরকার হয়। ডিফল্ট ইঞ্জিন যুক্তাক্ষরগুলোর সঠিক রূপ বা গ্লিফ তৈরি করতে পারে না, ফলে অক্ষরগুলো ভেঙে যায়।

সমস্যা সৃষ্টিকারী বিষয় ফলাফল কীভাবে বদলায় নিজে যাচাই করার উপায়
টেক্সট ইঞ্জিন সেটিংস ল্যাটিন ইঞ্জিন যুক্তাক্ষর ভাঙে, Indic ইঞ্জিন তা জোড়া লাগায় Preferences > Type মেনু দেখুন
কম্পোজার নির্বাচন সিঙ্গেল-লাইন কম্পোজার মাত্রা ও কার-চিহ্ন ভুল জায়গায় বসায় Paragraph প্যানেলের ফ্লাইআউট মেনু চেক করুন
ফন্ট ও এনকোডিং অমিল ইউনিকোড ফন্টে ANSI টেক্সট লিখলে দুর্বোধ্য চিহ্ন আসে কীবোর্ড মোডের সাথে ফন্টের নাম মিলিয়ে নিন

ফন্টের এনকোডিং ভুল হওয়া দ্বিতীয় প্রধান কারণ। মানুষ এই ভুলটিই সবচেয়ে বেশি করে। ইউনিকোড ফন্ট যেমন ‘Kalpurush’ নির্বাচন করে যদি বিজয়ের ক্লাসিক মোডে টাইপ করা হয়, তবে টেক্সট ইঞ্জিন ঠিক থাকলেও লেখা ভুল দেখাবে। যদি ইউনিকোড ব্যবহার করেন, তবে অভ্র বা বিজয়ের ইউনিকোড মোড চালু রাখুন; আর যদি ANSI ফন্ট ব্যবহার করতে চান, তবে কীবোর্ড ক্লাসিক মোডে বদলে নিন। তৃতীয় বিষয়টি হলো ফন্ট ফাইলের নিজস্ব ত্রুটি। কিছু সস্তা বা অপেশাদার বাংলা ফন্টে সঠিক ওপেনটাইপ টেবিল থাকে না, যা জটিল যুক্তবর্ণ ঠিক রাখতে ব্যর্থ হয়।

ইলাস্ট্রেটরে বাংলা ফন্ট সমস্যার সমাধান করার ধাপ

  1. ওপরের মেনু বার থেকে Edit-এ ক্লিক করে Preferences-এ যান এবং Type নির্বাচন করুন।
  2. Language Options অংশে গিয়ে ‘Show Indic Options’ চেকবক্সে টিক চিহ্ন দিন এবং OK চাপুন।
  3. ইলাস্ট্রেটর পুরোপুরি বন্ধ করুন এবং আবার নতুন করে চালু করুন যাতে সেটিংসটি কার্যকর হয়।
  4. Type Tool দিয়ে আর্টবোর্ডে একটি টেক্সট বক্স নিন এবং যেকোনো সাধারণ বাংলা শব্দ লিখুন।
  5. উইন্ডো মেনু থেকে Type সিলেক্ট করে Paragraph প্যানেলটি আর্টবোর্ডে দৃশ্যমান করুন।
  6. Paragraph প্যানেলের ওপরের ডান কোণে থাকা তিনটি লাইনের মেনু আইকনে ক্লিক করুন।
  7. ড্রপডাউন তালিকা থেকে ‘Middle Eastern & South Asian Every-line Composer’ নির্বাচন করুন।
  8. ফন্ট মেনু থেকে একটি পরীক্ষিত ইউনিকোড ফন্ট যেমন ‘SutonnyMJ’ বা ‘Kalpurush’ বেছে নিন।
  9. কীবোর্ডে একটি জটিল যুক্তবর্ণ যেমন “ক্ষ” বা “জ্ঞ” টাইপ করে দেখুন অক্ষরগুলো জোড়া লেগেছে কি না।

যদি ফন্ট ফাইলের গ্লিফ টেবিল ক্ষতিগ্রস্ত থাকে, তবে কোনো সফটওয়্যার সেটিংস দিয়ে তা ঠিক করা যাবে না। সেক্ষেত্রে ফন্ট ফাইলটি নতুন করে প্রস্তুতকারকের ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নিতে হবে।

বাংলা লেখার বিভিন্ন পদ্ধতির কাজের তুলনা

বাংলা লেখার বিভিন্ন পদ্ধতির নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া প্রয়োজন।

লেখার পরিস্থিতি কী পদক্ষেপ নেবেন প্রয়োজনীয় সময় বা মাধ্যম সতর্কতার বিষয়
আধুনিক ইউনিকোড টাইপিং Indic Composer চালু করুন ১ মিনিট সময় ফন্ট যেন ইউনিকোড হয়
পুরোনো ANSI বা বিজয় টাইপ কীবোর্ড ক্লাসিক মোডে নিন ৩০ সেকেন্ড সময় সঠিক বিজয়ী ফন্ট নির্বাচন
প্রিন্ট ফাইলের টেক্সট সংরক্ষণ সব টেক্সট ক্রিয়েট আউটলাইন করুন ১০ সেকেন্ড সময় পরে আর এডিট করা যাবে না
ওয়েব ও অ্যাপ ডিজাইন ডিরেক্ট ইউনিকোড বজায় রাখুন কোনো অতিরিক্ত সময় নেই সিস্টেম ফন্ট সাপোর্ট নিশ্চিত করুন
ক্লায়েন্টের ফাইল ওপেন মিসিং ফন্ট ইনস্টল করুন ২-৫ মিনিট সময় টেক্সট রিফ্লো হচ্ছে কি না

নিখুঁত আউটপুটের জন্য পেশাদারদের কাজের কৌশল

অভিজ্ঞ ডিজাইনাররা ফাইল সাজানোর শুরুতেই টেক্সট ইঞ্জিন ঠিক করে নেন, কাজ শেষে নয়।

কম্পোজার ও এনকোডিং শৃঙ্খলা

অভিজ্ঞরা সবসময় পুরো ডকুমেন্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট কম্পোজার শুরুতেই প্যারাগ্রাফ স্টাইলে সেভ করে রাখেন। এতে প্রতিবার নতুন টেক্সট বক্স নিলে আলাদা করে সেটিংস বদলাতে হয় না। নতুনরা প্রায়ই একটি ফন্টে লিখে অন্য এনকোডিংয়ের ফন্টে লেখা কনভার্ট করার চেষ্টা করেন, যা অক্ষরের আকার নষ্ট করে। আপনার ফন্ট যদি ইউনিকোড হয়, তবে কীবোর্ড ইনপুটও শতভাগ ইউনিকোড হতে হবে।

প্রিন্টিং ও আউটলাইনের প্রস্তুতি

প্রিন্ট প্রেসে পাঠানোর আগে অভিজ্ঞরা মূল এডিটেবল ফাইলের একটি কপি আলাদা সেভ করেন। এরপর মূল আর্টবোর্ডের সমস্ত বাংলা লেখাকে Type মেনু থেকে Create Outlines করে ভেক্টরে রূপান্তর করেন। এতে প্রেসের কম্পিউটারে নির্দিষ্ট বাংলা ফন্ট না থাকলেও লেখার একটি মাত্রাও সরে যায় না। তবে মনে রাখবেন, আউটলাইন করার পর টাইপো বা বানানের ভুল সাধারণ উপায়ে আর ঠিক করা যায় না।

বাংলা লেখার সাধারণ সমস্যা ও তার প্রতিকার

টাইপ করার সময় কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখে সমস্যার কারণ বোঝা যায় এবং দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়।

Read Also: How to Install Bangla Font in Windows 10​: সহজ ও দ্রুত গাইড

আপনি যা দেখছেন এর সাধারণ কারণ প্রথমে যা করবেন ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধের উপায়
যুক্তবর্ণ ভেঙে আলাদা অক্ষর Indic Composer বন্ধ আছে প্যারাগ্রাফ মেনু থেকে কম্পোজার বদলান ডিফল্ট প্রেফারেন্সে Indic সেভ রাখুন
হ্রস্ব-ই কার অক্ষরের ডানে ল্যাটিন কম্পোজার সক্রিয় South Asian Composer নির্বাচন করুন সঠিক কম্পোজার সক্রিয় রাখুন
লেখার বদলে চারকোণা বাক্স ফন্টে ওই বাংলা গ্লিফ নেই পরিচিত স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট সিলেক্ট করুন নির্ভরযোগ্য ফন্ট প্যাক ব্যবহার করুন
যুক্তাক্ষরের মাঝে ফাঁকা জায়গা কীবোর্ডের লিঙ্ক বা হসন্ত ভুল কীবোর্ড মোড চেক করে রিটাইপ করুন সঠিক যুক্তবর্ণ টাইপিং নিয়ম শিখুন
ফন্ট নাম নির্বাচন হচ্ছে না ফন্ট ফাইলে পারমিশন ত্রুটি অ্যাডমিন হিসেবে ফন্ট ইনস্টল করুন ফন্ট ফাইলটি রি-ইনস্টল করুন

টাইপোগ্রাফি সফটওয়্যার ও ফন্ট স্ট্যান্ডার্ডের নিয়ম

কম্পিউটারে টেক্সট রেন্ডারিং সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বৈশ্বিক মান নির্ধারণ করে ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম। প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী, জটিল দক্ষিণ এশীয় লিপিগুলোর জন্য ওপেনটাইপ ফন্ট ফরম্যাটে বিশেষ লুকআপ টেবিল থাকা বাধ্যতামূলক। এই টেবিলগুলো ছাড়া যুক্তাক্ষর বা কারচিহ্নগুলো সঠিকভাবে প্রদর্শিত হয় না।

অ্যাডোবি তাদের সফটওয়্যারগুলোতে এই আন্তর্জাতিক মান মেনেই ইঞ্জিন যুক্ত করেছে। তাদের অফিসিয়াল সহায়িকা অনুযায়ী, জটিল স্ক্রিপ্ট ও কম্পোজার ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলি বিস্তারিত বলা আছে। প্রফেশনাল ডিজাইনের ক্ষেত্রে ‘World-Ready Composer’ নির্বাচন করা জরুরি। এটি না করলে অনেক সময় ফন্টের গ্লিফগুলো ভেঙে যায় বা ভুল স্থানে বসে।

উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে ফন্ট ইনস্টল করার জন্য ব্যবহারকারীর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর প্রিভিলেজ থাকতে হয়। আপনি যদি অফিসের সীমাবদ্ধ নেটওয়ার্ক পিসিতে কাজ করেন, তবে আইটি বিভাগের অনুমতি ছাড়া নতুন ফন্ট ইনস্টল করা সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে পোর্টেবল ফন্ট লোডার ব্যবহার করা একটি সাধারণ ভুল। এটি সাময়িকভাবে কাজ করলেও ফাইলটি অন্য পিসিতে পাঠালে ফন্ট মিসিং এরর দেখাবে।

সঠিক ফন্ট নির্বাচনের সময় এর ফাইল ফরম্যাট যাচাই করুন। ওটিএফ (OTF) ফরম্যাট টিটিএফ (TTF) এর তুলনায় বেশি অ্যাডভান্সড ফিচার সাপোর্ট করে। যদি আপনার প্রজেক্টে অনেক বেশি ল্যাঙ্গুয়েজ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই ভ্যারিয়েবল ফন্ট ব্যবহার করুন। ভ্যারিয়েবল ফন্ট একই ফাইলে বিভিন্ন ওয়েট ও উইডথ ধারণ করতে পারে, যা ফাইলের সাইজ কমায়।

যদি ফন্ট ইনস্টল করার পরও টেক্সট সঠিকভাবে না দেখায়, তবে সফটওয়্যারের ক্যাশে মেমোরি ক্লিয়ার করুন। অনেক সময় পুরনো ফন্টের ডাটা মেমরিতে আটকে থাকে। এরপরও সমস্যা থাকলে ল্যাঙ্গুয়েজ সেটিংস চেক করুন। উইন্ডোজের ক্ষেত্রে ‘Region and Language’ সেটিংস থেকে সঠিক কিবোর্ড লেআউট নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই নিয়মগুলো মানলে ফন্ট রেন্ডারিং নিয়ে জটিলতা অনেকাংশেই কমে আসবে।

ফন্ট সমস্যা ঠিক করতে যে শ্রম ও খরচ হয়

ইলাস্ট্রেটরে বাংলা লেখার সমস্যা সমাধানে কোনো বাড়তি টাকা খরচ করতে হয় না। প্রয়োজন শুধু সফটওয়্যারের নিজস্ব সেটিংস সঠিকভাবে জানা এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের সময় দেওয়া।

যদি আপনি ফ্রি ইউনিকোড ফন্ট যেমন লিপিঘর বা অমিক্রনল্যাবের ফন্ট ব্যবহার করেন, তবে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে কোনো বাণিজ্যিক প্রকাশনার জন্য কাস্টম ওপেনটাইপ ডিসপ্লে ফন্ট কিনতে গেলে লাইসেন্সভেদে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

ভুল সেটিংসে পুরো বই বা ব্রোশিউর ডিজাইন করে প্রেসে পাঠিয়ে দিলে ভুল প্রিন্টের কারণে হাজার হাজার টাকার কাগজ নষ্ট হতে পারে। তাই ডিজাইনের শুরুতেই ১০ সেকেন্ড ব্যয় করে একটি একক শব্দ প্রিন্ট প্রিভিউ দেখে নেওয়া এই আর্থিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করে।

সাধারণত নতুন ডিজাইনাররা ‘Adobe World-Ready Layout’ অপশনটি চালু করতে ভুলে যান। এটি সক্রিয় না থাকলে যুক্তাক্ষর ভেঙে যায় বা ফন্ট উল্টে যায়। এই ছোট ভুলটি ঠিক করতে মাত্র দুটি ক্লিক লাগে, কিন্তু না করলে পুরো প্রজেক্ট নতুন করে করতে হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হয়।

আপনার হাতে থাকা ফন্টটি যদি ‘OpenType’ ফরম্যাটের না হয়, তবে সেটি ইলাস্ট্রেটরে কাজ করবে না। কেনার আগে নিশ্চিত হোন ফন্টটি ‘Unicode’ সমর্থিত কি না। যদি ফন্টের ফাইলটি .ttf বা .otf ফরম্যাটের হয়, তবেই এটি আধুনিক গ্রাফিক সফটওয়্যারে কাজ করবে। পুরনো ANSI বা Bijoy এনকোডিংয়ের ফন্ট ব্যবহার করলে টেক্সট বক্সে শুধু অদ্ভুত কিছু চিহ্ন দেখা যাবে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সহজ নিয়ম হলো: যদি টেক্সট বক্সে টাইপ করার সময় অক্ষরগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত না হয়, তবে সেটি আপনার ফন্টের সমস্যা নয়, বরং সেটিংসের সমস্যা। দ্রুত ‘Paragraph’ প্যানেলে গিয়ে ‘Adobe World-Ready Paragraph Composer’ সিলেক্ট করুন। যদি এরপরও সমস্যা থাকে, তবে বুঝবেন ফন্টটি ইউনিকোড নয়।

Related: Unicode Bangla Font vs Bijoy Font

বড় কোনো প্রজেক্টে হাত দেওয়ার আগে একটি ডামি ফাইল তৈরি করুন। সেখানে আপনার পছন্দের ফন্টটি দিয়ে একটি জটিল যুক্তাক্ষর যেমন ‘ক্ষ’ বা ‘জ্ঞ’ লিখে দেখুন। যদি সেটি সঠিকভাবে প্রদর্শিত হয়, তবেই মূল কাজে হাত দিন। এই সামান্য সতর্কতা আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেবে। সঠিক সেটিংস জানা থাকলে ৫ মিনিটের বেশি সময় কখনোই নষ্ট হয় না।

টেক্সট আউটপুট দীর্ঘমেয়াদে ঠিক রাখার উপায়

একবার সেটিংস ঠিক হয়ে গেলে তা যেন প্রতিটি নতুন ডকুমেন্টে বজায় থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবার নতুন ফাইল খোলার পর যাতে কম্পোজার পরিবর্তন করতে না হয়, সেজন্য একটি ডিফল্ট ব্ল্যাঙ্ক ডকুমেন্ট তৈরি করে তাতে Indic Composer চালু রেখে তা টেমপ্লেট হিসেবে সংরক্ষণ করুন।

কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম আপডেট হলে বা ইলাস্ট্রেটর নতুন সংস্করণে আপগ্রেড করা হলে অনেক সময় প্রেফারেন্স রিসেট হয়ে যায়। যদি লক্ষ্য করেন যে হঠাৎ করে আবার যুক্তবর্ণ ভেঙে যাচ্ছে, তবে বুঝবেন প্রেফারেন্সে Indic টিকটি উঠে গেছে। তখন আবার নতুন করে সেটিংস থেকে Show Indic Options চালু করে সফটওয়্যার রিস্টার্ট দিলেই সবকিছু আগের মতো কাজ করবে।

এই সমস্যার ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভুল হলো সরাসরি নতুন ফাইল নিয়ে কাজ শুরু করা। এতে সফটওয়্যার তার ডিফল্ট মোডে ফিরে যায়, যা বাংলা ফন্টের জন্য উপযুক্ত নয়। এই ভুলটি এড়াতে আপনার তৈরি করা টেমপ্লেট ফাইলটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। যদি আপনি টেমপ্লেট ফাইল থেকে কাজ শুরু না করেন, তবে প্রতিটি ফাইলে আলাদাভাবে প্যারাগ্রাফ প্যানেলের মেনু থেকে Indic Composer নির্বাচন করতে হবে। এটি আপনার কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং টাইপিংয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

একটি সহজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ম মনে রাখুন। যদি আপনার ফাইলে যুক্তবর্ণের আকার অস্বাভাবিক দেখায় বা অক্ষরগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে প্রথমেই চেক করুন আপনার প্যারাগ্রাফ প্যানেলে Indic Composer সক্রিয় আছে কি না। যদি সেখানে সেটি অস্পষ্ট থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনার ডকুমেন্টটি এখনো Western বা অন্য কোনো কম্পোজার মোডে আছে। সেক্ষেত্রে দ্রুত সেটি পরিবর্তন করে Indic মোডে আনুন।

সফটওয়্যারের নতুন ভার্সন ইনস্টল করার পর অনেক সময় পুরোনো প্রেফারেন্স ফাইলটি নতুন ভার্সনে কাজ করে না। এই জটিলতা এড়াতে প্রতিবার বড় কোনো আপডেটের পর একবার আপনার টেমপ্লেট ফাইলটি খুলে সেটি পুনরায় সেভ করুন। এতে সফটওয়্যারের নতুন এনভায়রনমেন্টের সাথে আপনার সেটিংসগুলো সঠিকভাবে সিঙ্ক হবে। এই সামান্য সতর্কতা আপনার দীর্ঘমেয়াদী কাজের মান ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করবে। নিয়মিত এই চেকআপটি আপনার কাজের অংশ করে নিন।

যেসব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজ করবে না

আপনি যদি কোনো নষ্ট বা অসম্পূর্ণ ফন্ট ফাইল ব্যবহার করেন, তবে এই নির্দেশিকা কোনো কাজে আসবে না। পুরোনো কিছু পাইরেটেড বা অবিকশিত ফন্টে ওপেনটাইপ কোডিং থাকে না; সেগুলোতে ইলাস্ট্রেটর কখনোই যুক্তবর্ণ জোড়া লাগাতে পারবে না।

ফন্টটি ব্যবহারের আগে এর ফাইল সাইজ যাচাই করুন। সাধারণত একটি স্ট্যান্ডার্ড বাংলা ফন্টের সাইজ ৫০ থেকে ২০০ কিলোবাইটের মধ্যে থাকে। যদি দেখেন ফাইলটি মাত্র ১০ বা ১৫ কিলোবাইটের, তবে বুঝবেন এতে প্রয়োজনীয় গ্লিফ বা কোডিং নেই। এমন ফন্ট দিয়ে কাজ করলে স্ক্রিনে অক্ষর ভেঙে যাবে অথবা বক্স চিহ্ন দেখাবে।

এছাড়া আপনি যদি সরাসরি কোনো ব্রাউজার এক্সটেনশন বা অননুমোদিত থার্ড-পার্টি অটো-স্ক্রিপ্ট দিয়ে টেক্সট ফিল্ড জোর করে পরিবর্তন করতে চান, তবে সফটওয়্যার ক্র্যাশ করতে পারে। অনেক সময় ইউজাররা ভুল করে ‘আউটলাইন’ করা টেক্সটের ওপর এই সেটিংস প্রয়োগ করতে চান। মনে রাখবেন, একবার টেক্সট আউটলাইন হয়ে গেলে সেটি আর এডিটেবল থাকে না। তখন সেটি কেবল একটি ভেক্টর শেপ হিসেবে কাজ করে।

টেক্সট এডিটিং যেখানে সম্ভব নয়, যেমন স্ক্যান করা কোনো ইমেজ ফাইলের টেক্সট ঠিক করতে চাইলে এই সেটিংস কাজ করবে না। ইমেজ ফাইল পিক্সেল দিয়ে তৈরি, তাই সেখানে ফন্ট ইঞ্জিন কাজ করার সুযোগ পায় না। সেক্ষেত্রে কোনো প্রফেশনাল টাইপোগ্রাফারের সাহায্য নিয়ে টেক্সট রি-টাইপ করানোই একমাত্র সমাধান।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়মটি সহজ: যদি টেক্সটটি সিলেক্ট করা যায় এবং কার্সার নড়াচড়া করা সম্ভব হয়, তবেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করুন। যদি টেক্সটটি একটি ইমেজ বা ভেক্টর শেপ হয়, তবে সময় নষ্ট না করে নতুন করে টাইপ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল পথে এগোলে আপনার মূল ডিজাইন ফাইলটি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

Check Out: How to Solve Bangla Font Problem in Chrome​: সহজ ও কার্যকর সমাধান!

Frequently asked questions

কেন আমার ইলাস্ট্রেটরে Show Indic Options অপশনটি নেই?

পুরোনো CS সংস্করণে সরাসরি এই অপশনটি ছিল না, সেখানে পূর্ব এশীয় ভাষা সেটিংস ব্যবহার করতে হতো। ইলাস্ট্রেটর সিসি সংস্করণে Preferences মেনুর Type সেকশনের ভেতরে সবসময় এই অপশনটি দৃশ্যমান থাকে।

কিবোর্ডে ইউনিকোড নাকি এএনএসআই কোনটা ব্যবহার করা নিরাপদ?

আধুনিক প্রিন্ট ও ডিজিটাল যেকোনো কাজের জন্য ইউনিকোড ব্যবহার করা শতভাগ নিরাপদ। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সব ডিভাইসে সমর্থন করে, যেখানে এএনএসআই কেবল নির্দিষ্ট ফন্টের ওপর নির্ভরশীল।

আউটলাইন করার পর কি যুক্তবর্ণের ভুল ঠিক করা যায়?

না, Create Outlines করার সাথে সাথে লেখাটি সাধারণ ভেক্টর শেপে রূপান্তর হয়ে যায়। তাই আউটলাইন করার আগে অবশ্যই বানান পরীক্ষা করুন এবং মূল এডিটেবল লেখার একটি ব্যাকআপ লেয়ার রেখে দিন।

কত দ্রুত এই ফন্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায়?

সঠিক মেনু চিনে থাকলে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পুরো সেটিংস ঠিক করে ফেলা সম্ভব। Preferences বদলানো এবং একবার সফটওয়্যার রিস্টার্ট দেওয়ার সময়ের ওপর এটি নির্ভর করে।

কেন ইউনিকোড ফন্ট ইনস্টল থাকা সত্ত্বেও টেক্সট বক্স ফাঁকা দেখায়?

ফন্ট ফাইলের এক্সটেনশন বা উইন্ডোজ ফন্ট রেজিস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমনটি ঘটে। ফন্টটি কন্ট্রোল প্যানেল থেকে আনইনস্টল করে সরাসরি রাইট-ক্লিক করে ‘Install for all users’ দিয়ে আবার ইনস্টল করুন।

এক ফন্ট থেকে অন্য ফন্টে বদলালে লেখা ভেঙে যায় কেন?

দুটি ফন্ট আলাদা এনকোডিং যেমন একটি ANSI এবং অন্যটি Unicode হলে এই ভাঙন ঘটে। কীবোর্ডের ইনপুট মোড যে ধরনের, ফন্টও ঠিক একই এনকোডিংয়ের হতে হবে।

বাংলা টেক্সট রেন্ডারিং ঠিক করার পরবর্তী পদক্ষেপ

প্রথমে Adobe Illustrator-এর Preferences মেনু থেকে Type প্যানেলে যান এবং Show Indic Options অপশনটি চালু করুন। এরপর সফটওয়্যারটি একবার রিস্টার্ট দিন। এখন একটি টেক্সট বক্সে “যুক্তরাষ্ট্র” শব্দটি লিখে Paragraph মেনু থেকে South Asian and Middle Eastern Composer নির্বাচন করলেই সব যুক্তবর্ণ সঠিকভাবে জোড়া লেগে যাবে।

যদি এই সেটিংস পরিবর্তনের পরেও অক্ষরের মাত্রা বা কার চিহ্ন বিকৃত দেখায়, তবে বুঝতে হবে আপনার ব্যবহৃত ফন্ট ফাইলটি ইউনিকোড স্ট্যান্ডার্ড পুরোপুরি সমর্থন করে না। এ ক্ষেত্রে ফন্ট পরিবর্তন করাই একমাত্র সমাধান। বিশেষ করে ওপেন সোর্স ফন্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত আপডেট ভার্সন ব্যবহার না করলে অনেক সময় ক্যারেক্টার ম্যাপ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

জটিল ডিজাইনে বাংলা ব্যবহারের সময় শুরুতেই একটি টেস্ট পিডিএফ এক্সপোর্ট করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। অনেক সময় স্ক্রিনে ফন্ট ঠিক দেখালেও পিডিএফ করার সময় ফন্ট এম্বেড না হলে টেক্সট ভেঙে যায়। তাই এক্সপোর্ট করার সময় ‘Subset fonts when percent of characters used is less than 100%’ অপশনটি আনচেক করে দেখুন। এতে ফন্টের সব গ্লিফ ফাইলটিতে যুক্ত হবে এবং মুদ্রণের সময় কোনো ভুল হবে না।

সঠিক ফন্ট এবং কম্পোজার নির্বাচন আপনার কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। Adobe-এর ‘Every-line Composer’ বাংলা টেক্সটে প্রায়ই ভুল লাইন ব্রেক তৈরি করে, তাই দীর্ঘ অনুচ্ছেদে ‘South Asian and Middle Eastern Composer’ ব্যবহার নিশ্চিত করুন। কার চিহ্ন লাফাতে থাকলে ফন্টের লিডিং সেটিংস পরীক্ষা করুন এবং প্যারাগ্রাফ প্যানেলের ‘Ligatures’ অপশনটি পরিবর্তন করে দেখুন। এই ছোট টিপসগুলো মেনে নিয়মিত অনুশীলন করুন।

Related guides

Avatar photo

lipibd

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্রি বাংলা ফন্ট ডাউনলোড প্ল্যাটফর্ম। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ইউনিকোড ও ANSI ফন্ট সম্পূর্ণ ফ্রিতে ডাউনলোড করুন।

View All Posts →